Saturday, May 21, 2022

তত্ত্বমসি - ২

দিন দুই আগে কয়েকটা লাইন হিজিবিজি লেখার পর মনে হয়েছিল --- লেখাটি আর একটু বেশি হলে মনে হয় লেখাটির প্রতি যথাযথ বিচার করা হত। তাই আগের লেখার "কান" ধরে টেনে লম্বা করার চেষ্টা!! --- 😄

*তত্ত্বমসি*

এটা চাই ওটা চাই,
যত করি বায়না, -
চেয়েও যা পাই,
মন তাতে রয় না।
 
এক পাওয়াতে মন
কভু খুশি রয় না,
আর এক চাওয়া-র তাই, 
দেরী আর সয় না!

চাই চাই ক'রে মন,
ক'মা, দাঁড়ি মানে না,
মরণ কালেও তাই,
চাওয়া পিছু ছাড়ে না।

চাইয়ের ব্যাধি থেকে
মুক্তি কি পাব না?
এস দেখি পালন করে
নীচের নিয়ম খানা।

দিনে তুমি একবার
বল "কিছু চাই না" ---
দেখো ধরা দিল কি
তোমার ওই আয়না? 

একবার বললে প'রে,
বলে দেখো বার বার,
কোরো না কিছুতে ভয়,
নেই কিছু হারাবার।

পূর্ণ যদিও যায় চলে,
মন যেন কাঁদে না,
পূর্ণ-ই যে শাস্ত্রে মেলে,
শূণ্য হলে বাসনা।

প্রেমের উৎস ধরে,
প্রেমের জীবন লভি,
প্রেমিকের হাত ধরে,
মরণেও প্রেম লভি।

কত শত যাওয়া আসা,
কোনো হিসাব নেই -- 
আসা যাওয়া যত কর, 
(জেনো) তুমিই সেই, তুমিই সেই।।

*তত্ত্বমসি! তত্ত্বমসি!!*

দ্রষ্টব্য - পাঠক ভেদে প্রেমের বা প্রেমিকের ভিন্ন মানে করা যেতে পারে। 

প্রেম = আনন্দ/সচ্চিদানন্দ 
প্রেমিক = পিতা/ঈশ্বর

Thursday, May 19, 2022

তত্ত্বমসি


প্রেম সর্বত্র - যত তারে ধরতে যাবে, ততই যেন সে লুকোচুরি খেলা খেলবে। রবি ঠাকুরের ঐ গানের অ়ংশটি খুবই প্রাসঙ্গিক  তারে ধরি ধরি মনে করি ধরতে গেলে ধরা দেয় না 🎼🎶
অতএব তার পিছনে না ছুটে আপন জায়গায় বসে তাকে ধরার চেষ্টা করো। এই  ভাবটি নিয়েই নীচের কিছু লাইন লেখার চেষ্টা করা হয়েছে ---- 

এটা চাই ওটা চাই
যত করি বায়না,
চেয়েও যা পাই
মন তাতে রয় না।

দিনে তুমি একবার
বল "কিছু চাই না" ---
ধরা দেবে তখনই 
তোমারি ঐ আয়না ।।

তত্ত্বমসি! তত্ত্বমসি!!

Friday, May 13, 2022

অন্তরের পানে

নীচের কয়েকটি পংক্তি জানুয়ারী ২০১৩ তে লেখা। বাইরের জগতের আকর্ষণের হাতছানিকে অবজ্ঞা করা মুশকিল কিন্তু আনন্দ-পথের হদিস তো অন্তরেই..........

অন্তরের পানে

নাহি নাহি নাহি নাহি
       নাহি কিছু বাহিরে -
যাহা কিছু আছে দেখো
       চাহি তব অন্তরে ।।

আঁখি মেলে কোথা চাহ,
       কারে খোঁজ "আঁধারে" -
আলো যাহা আছে দেখো
       সবই হৃদি মাঝারে ।।

কোথা যাও, কেন যাও,
       শুনিতে কাহারে -
স্পন্দিত হৃদি তব
       বাজিছে অন্তরে ।। 

পুরাতনের নূতন

কিছু দিন আগেই মানব সভ্যতার বঙ্গ ক্যালেন্ডার ১৪২৮ পেরিয়ে ১৪২৯-এ পা রাখলো। কিন্তু পুরাতন কে সরিয়ে কি নূতন এগোনোর ক্ষমতা রাখে? তাই কিছু শব্দের সাহায্য নিয়ে "পুরাতনে নূতন"

পুরাতনে নূতন

ওহে পুরাতন,

তুমি কেন এত বিমর্ষ? 

আহা, জানো নাকি যে 

এসেছে শুভ নববর্ষ?


ছাড়ো গ্লানি, ধর আনি

জীবনধারায় নব হর্ষ,

আনন্দময় হবে জীবন,

যদি আনন্দ কর কর্ষ।


কেন বসে ভাব মিছে

পুরাতন রবে পিছে,

ভেদ ভাব করো দূর, 

এক-ভাব সুমধুর।


আজ আমি যাই জানি

তোমারই তো দান মানি

যত বলি "আমি আমি",

বিনা তুমি, নাই আমি।

আনন্দেতে মন সদাই থাকো


ওপরের মেসেজটি এক শুভাকাঙ্ক্ষী পাঠিয়ে ছিলেন। মেসেজটি পেয়ে কিছু শব্দগুচ্ছ বের হয়েছে ... 
---------------------

লড়াই নিজের সাথেই - নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থের সাথেই - অহংয়ের  সাথেই।

গুণ ছাড়ি দোষ দেখো
তাতে তুমি খুশি থাকো?
যদি মন ছোপে দোষে
মন-ই দোষী হয় শেষে।
ছাড়ি দোষ গুণ ধরো,
ছাড়ি দ্বেষ প্রেম ধরো,
আনন্দ-প্রাধান্য পেলে চাষে,
আনন্দেতে মন সদাই হাসে।
আনন্দে মন সদাই হাসে।।

সকলে ভালো থাকুন। 

মা

8ই মে মাতৃদিবস। সেই উপলক্ষ্যে ছেলে, তার জীবনে মায়ের অবদান নিয়ে ভাবতে ভাবতে লিখে ফেলেছে ☺️ --- সকলের জন্য রইলো তার নিবেদন। 

8ই মে, 2022
-------------------
মা

তোমার জঠরে আমার জন্মের সংবাদ যখন পৌঁছোলো তোমার মনে, 
আনন্দের পরশ সেদিন ছুঁয়েছিল দুটি হৃদয়।
তারপর ----
জঠরেই এই মানব শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ রূপ পেয়েছে, 
তৈরী হয়েছে মস্তিষ্ক, হৃদয়, হাত, পা, দেহ, ---
সঙ্গে তৈরী হয়েছে কর্মের সংস্কার ---
যে কর্মের মাধ্যমে সংসারের কাজের মধ্যেও জঠরে আশ্রিত অবয়বটির চলেছে নিরলস যত্ন।

দশ মাস পরে জঠর ছেড়ে নেমে এলুম পৃথিবীতে,
পৃথিবীর আলো স্পর্শ করলো 
ছোট্ট কোমল শরীরটা; --
যেই নাড়ির সম্পর্কে চলল কাঁচি, 
অমনি আর্তনাদ "ওঁ-য়া-য়া-ও",
হাত-পা ছুঁড়ে পৃথিবীর বুকে শব্দ ব্রহ্ম আছড়ে পড়ল মায়ের হৃদয়ে;
এতদিনের না দেখা এলোপাথাড়ি লাথি গুলো
চোখের সামনে দেখে মায়ের চোখে আসে আনন্দের অশ্রু ---
অনুভূতি যখন সামনে প্রকাশ পায়, ---
তখন কি আর আনন্দাশ্রু বাধা মানে? --- 
দুই হাতে ছোট্ট শরীর জড়িয়ে ধরে, 
না বলা ভাষায় বেরিয়ে আসে -- "তুমি আমারই!" 
এত দিনের এত যে কষ্ট সহ্য করা, 
তা আজ সাফল্য রূপে প্রকাশ পেয়েছে।

দিন যত গড়িয়েছে,  কতরকমের পরিবর্তনের ছোঁয়া চেয়ে বেড়িয়েছে তোমার চোখ দুটি,
পাশ ফেরা, বসে পড়া, হামাগুড়ি দেওয়া, দেওয়াল ধরে দাঁড়ানো, হাঁটি হাঁটি, আর ----
আর বহু কাঙ্খিত শব্দ --- "মা-আ-আ!"
যত বার শুনতে চেয়েছ ---
হৃদয়ের স্পন্দনে তত আছড়ে পড়েছে -- ঐ "মা-আ-আ" ---
যতবার শুনেছ, ততবার পিছে ফেলে দিয়েছ নিজ স্বার্থ, 
প্রেমের নিঃস্বার্থ বাণী এগিয়ে দিয়েছে সন্তানের মঙ্গল কামনা।

স্কুল-কলেজ-কর্মক্ষেত্র এক একটি অধ্যায় পেরিয়ে, 
মাতৃস্নেহে বেড়ে ওঠা সন্তান পূর্ণ রূপ নিয়ে সংসারের কাজে নিজেকে করে নিবেদন, 
মায়ের হৃৎস্পন্দন নিয়ে ---

মাতৃঋণ, ---
সে তো ঋণ নয়, সে মাতৃশক্তি! সে এক অমূল্য সম্পদ!

আজ মাতৃদিবসে সেই মাতৃশক্তি উচ্চৈঃস্বরে ডেকে ওঠে ---
মা-আ-আ-আ!!! ভালো আছো???
ভালো থেকো, ---
ভালো থেকো ।। 🌷

চরণ ধরিতে দিও গো আমারে
নিও না, নিও না সরায়ে।
 জীবন মরণ সুখ দুঃখ দিয়ে,
বক্ষে ধরিব জড়ায়ে।

   --- তোমার খোকা/খুকী

মায়েরা ভালো থাকুন, ভালো রাখুন ☺️🙇🏻‍♂️